মাদারগঞ্জে ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আরও এক যুবক গ্রেপ্তার

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় গত দুই মাসে অন্তত ২৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শাকিল (২৭) নামের আরও এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার বালিজুড়ী ইউনিয়নের বীর নাদাগাড়ী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত শাকিল ওই এলাকার ফরিদ মন্ডলের ছেলে।

এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ১টা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী, বীর নাদাগাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মিয়াসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ট্রান্সফরমার চুরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত অপর পাঁচজন হলেন বীর নাদাগাড়ী এলাকার জাকির প্রামাণিকের ছেলে নুরু মিয়া সুমন (২৮), মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে সেলিম (৩২), মৃত কালু মন্ডলের ছেলে রবিনুর ইসলাম (২৮), চর নাদাগাড়ী এলাকার শুকুর আলীর ছেলে সুমন (২৮) এবং মাদারগঞ্জ পৌরসভার গাবেরগ্রাম এলাকার মৃত রাশেদ আলীর ছেলে রাসেল (২২)। এদের মধ্যে রাসেল মাদারগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে গ্রেপ্তারের পর তাকে ইতোমধ্যে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে ট্রান্সফরমার চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং আজ বুধবার সকালে তাকে জামালপুর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চোর চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুলাই থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ২৬টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্ট মাসে ১৭টি এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে তিনটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়। চুরি যাওয়া এই ট্রান্সফরমারগুলোর বেশিরভাগই বালিজুড়ী ও জোড়খালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে উধাও হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা জড়িতদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

০%
০%
০%
০%