পাবনায় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সাত দিনের মধ্যে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার দাবিতে রোববার পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও করা হয়।
রোববার দুপুরে শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। সেখানে তারা বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় কলি হত্যার বিচার চাই এবং খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইসহ বিভিন্ন স্লোগানে বিক্ষোভকারীরা দ্রুত বিচার দাবি করেন। বিক্ষোভে বক্তব্য রাখেন নিহত কলির বাবা কামাল হোসেন, স্থানীয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল আলম ও ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল প্রমুখ।
পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার বিচার কোনোভাবেই দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে দেওয়া যাবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সমাবেশে কয়েকজন বক্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কেউ আসামিদের পক্ষে আদালতে দাঁড়ালে তার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে অবস্থান নেওয়া হবে। বিচার নিশ্চিত না হলে আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাড়ি-ঘর ভেঙে সেখানে কলির নামে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার কথাও বলেন তারা। তবে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান অন্যরা।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, পুলিশের তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদিদোকানের পেছনের একটি ঘরে শিশুটিকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। পরে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। পুলিশের দাবি, হত্যার পর ঘটনা আড়াল করতে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি কলিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন। পুলিশ দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে। এর আগে শুক্রবার ও শনিবার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আসামির যাতে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, আমাদের পক্ষ থেকে সেই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।