আইফোন ছিনতাইয়ের লোভে কিশোর অপ্রতিমকে পরিকল্পিত খুন, আটক চার

কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কিশোর ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। একটি আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। রোববার দুপুরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান তিনি।

পুলিশ সুপার জানান, গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটা থেকে ছয়টার মধ্যে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে তার মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে ফোনটি নিয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।

নিখোঁজের পর সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করছে। এর সূত্র ধরেই প্রথমে তুহিনকে আটক করা হয় এবং পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তুহিন ও ফাহাদকে জিজ্ঞাসাবাদে কামরুলের সম্পৃক্ততার কথা বেরিয়ে আসে এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে ছিনতাই হওয়া আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ছিলেন। গত শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে, দুই দফা জানাজা শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে। সকাল দশটায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে এবং বেলা সাড়ে ১১টায় বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়া অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সামান্য একটি আইফোনের জন্য তার ১৩ বছর বয়সি নিষ্পাপ ছেলেকে এভাবে প্রাণ হারাতে হয়েছে, যা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। যাদের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করে হাসিমুখে পাহাড়ি এলাকার দিকে গিয়েছিল, সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই তার সন্তানকে কেড়ে নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ঘাতকদের দ্রুত ও কঠোর বিচার দাবি করেছেন। স্থানীয় এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবারও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

০%
০%
০%
০%