ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পৌরসভায় তিতাস নদী রাতের আঁধারে ড্রেজার বসিয়ে ভরাটের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে অবস্থিত আহমেদ প্রাইভেট হাসপাতালের মালিক ফরিদ মিয়া এই অবৈধ নদী দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। গত শনিবার পানির নিচ থেকে বালু জেগে ওঠার পর বিষয়টি সাধারণ মানুষের নজরে আসে এবং এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকেই ভরাট কাজ শুরু করেছিলেন ফরিদ মিয়া। বিগত কয়েক বছর এই কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা পুনরায় শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত আহমেদ হাসপাতালের মালিক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ দাবি করেছেন যে, তিনি তার ক্রয়কৃত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করছেন এবং ভূমি অফিসে শ্রেণিবদলের মাধ্যমে জায়গাটি নাল হিসেবে রেকর্ডভুক্ত রয়েছে।
তিতাস নদী এই অঞ্চলের অন্যতম প্রধান নৌপথ হওয়ায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। এই নদী দিয়ে প্রতিদিন ভৈরব ও নরসিংদীতে লঞ্চ, যাত্রীবাহী নৌকা, স্পিডবোট এবং পণ্যবাহী কার্গো যাতায়াত করে। নদীটির নাব্যতা রক্ষার্থে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ২৬ কোটি ৬৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২৪ কিলোমিটার নদীপথে খননকাজ চালানো হয়েছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পলি জমে নদী এমনিতেই সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচকাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। এভাবে বালু ভরাট চলতে থাকলে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তীব্র পানি সংকট দেখা দেবে এবং নদীনির্ভর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হবে। এই ঘটনার বিষয়ে নবীনগরের ইউএনও রাকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, নদী দখল বা ভরাটের কোনো আইনি সুযোগ নেই এবং তিতাস নদীর ওই স্থানের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি চলছে।
অবৈধভাবে নদী ভরাটের এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার অবিলম্বে নদীতে ফেলা বালু অপসারণের দাবি জানিয়েছেন। তারা নদীর সঠিক সীমানা চিহ্নিত করে সব অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নদী দখল ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।