AdvertisementAdvertisement

জ্বালানি সংকটে শিল্প বিপর্যয় রোধে ৯০ দিনের বিল পরিশোধের সুযোগ ও ঋণ কিস্তি স্থগিতের দাবি চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ও ছাড়ের দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। শিল্পখাতকে দীর্ঘমেয়াদী বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে ব্যাংকঋণের কিস্তি স্থগিত এবং পরিষেবা বিল পরিশোধে বাড়তি সময় চেয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রীর কাছে আজ শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিসিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত এই পত্রে শিল্পায়ন টিকিয়ে রাখতে জরুরি সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির অভাবে টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক ও প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। জ্বালানির তীব্র ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অথবা অনানুষ্ঠানিক ‘লে-অফ’ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। রপ্তানি আয় ও বিক্রয়লব্ধ অর্থ কমে যাওয়ায় উদ্যোক্তাদের পক্ষে কর্মীদের বেতন-ভাতা প্রদান ও দৈনন্দিন পরিচালন ব্যয় নির্বাহ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জ্বালানি সংকটের এই উত্তাল সময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার। সেই সঙ্গে সাময়িক বকেয়ার কারণে জরিমানা আরোপ না করে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে আগামী ৯০ দিন পর্যন্ত সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের দাবি, আগামী অন্তত ছয় মাস পর্যন্ত এই নমনীয়তা বজায় থাকলে উৎপাদন খাতের বিপর্যয় কিছুটা হলেও সামাল দেওয়া সম্ভব হবে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীর কাছে পাঠানো চিঠিতে ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারকে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে অভিহিত করেছেন চেম্বার নেতৃবৃন্দ। এমন সংকটকালে ঋণের বোঝা শিল্পায়নের পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে নেতিবাচক বার্তার জন্ম দিচ্ছে। এই বাস্তবতায়, রপ্তানিমুখী পোশাক খাতসহ দেশের সব শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় অন্তত তিন মাসের জন্য ব্যাংকঋণের কিস্তি প্রদান স্থগিত এবং সুদ মওকুফের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারির দাবি জানানো হয়েছে।

0%
0%
0%
0%