দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা সিইপিএ-কে স্বাগত জানিয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বা এফবিসিসিআই। সংগঠনটির মতে, এই ঐতিহাসিক চুক্তি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, যা দেশের রপ্তানি বহুমুখীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, দক্ষিণ কোরিয়া প্রতিবছর বিশ্ববাজার থেকে প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করে থাকে, যার মধ্যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বর্তমানে মাত্র ৩ শতাংশ। এই চুক্তির ফলে কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের পাশাপাশি চামড়াজাত পণ্য, জুতা, ওষুধ এবং বিভিন্ন কৃষিপণ্য রপ্তানির ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ১.৩৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ ৯০৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে এবং ৪১১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। এই বাণিজ্যের ঘাটতি কমিয়ে আনতে সিইপিএ কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন এফবিসিসিআই প্রশাসক। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত এই চুক্তির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গেও বড় পরিসরে বাণিজ্যচুক্তি করা সহজতর হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এতে করে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণ-পরবর্তী অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো আরও দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পরিধিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখ্য যে, মাত্র এক বছরের কম সময়ের আলোচনা শেষে গত ৪ আগস্ট বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে এই সিইপিএ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে বাংলাদেশের ৮ হাজার ৪২৮টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বাজারে দক্ষিণ কোরিয়া তাদের ৮৭ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৫৪টি পণ্যে অনুরূপ শুল্ক সুবিধা ভোগ করবে।
