সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেলবাহী জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় আরব দেশগুলোর তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালী অতিক্রমের সময় আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উপসাগরীয় ও আরব দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে এই হামলাকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ‘জলদস্যুতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবুধাবি অবিলম্বে তেহরানকে এই আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে কোনো শর্ত ছাড়াই নৌপথটি উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ডব্লিউএএম-এর তথ্য অনুযায়ী, এডিএনওসি নিশ্চিত করেছে যে তাদের একটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তবে হামলার সময় জাহাজটির সঠিক অবস্থান বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথকে অর্থনৈতিক ব্ল্যাকমেইল বা চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি।
আইআরজিসি অতীতেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত বা তাদের নির্দেশ অমান্যকারী যেকোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালীতে বাধার মুখে পড়তে হবে। এডিএনওসি জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তাদের ১৫টি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলার শিকার হয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হয়, যাতে একজন নাবিক নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরব এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং জাতিসংঘ রেজোলিউশন ২৮১৭-এর পরিপন্থী বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রিয়াদের ভাষ্যমতে, এই হামলার সব দায়ভার তেহরানকেই নিতে হবে। এছাড়া গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই এই ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য এবং বিপজ্জনক উত্তেজনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
কাতার ও জর্ডানও পৃথক বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে। দোহা সতর্ক করেছে যে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকার ফলে আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থ ও বিশ্ব অর্থনীতি গভীর সংকটের মুখে পড়বে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যেখানে আমিরাতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার দাবি জানিয়ে আসছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
