AdvertisementAdvertisement

বৈরুতে আটক আসাদ আমলের সাবেক সিরীয় জেনারেল হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা

বৈরুতের সিরীয় দূতাবাসে ব্যক্তিগত নথিপত্র হালনাগাদ করতে গিয়ে বিপাকে পড়লেন সাবেক সিরীয় মেজর জেনারেল আদেল ইসা। গত শুক্রবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে তাকে আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। আসাদ সরকারের পতনের পর সিরীয় কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম কোনো নজির।

এএফপি ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য মতে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দূতাবাসে প্রবেশের পর সেখানকার কর্মকর্তারা তাকে চিনতে পেরে লেবাননের প্রসিকিউটর কার্যালয়কে অবহিত করেন। এরপরই দেশটির অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তারা তাকে হেফাজতে নিয়ে বৈরুত প্যালেস অব জাস্টিসে স্থানান্তর করেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জিজ্ঞাসাবাদে ৬৭ বছর বয়সী আদেল ইসা স্বীকার করেছেন যে, গত ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর তিনি অবৈধভাবে লেবাননে প্রবেশ করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। লেবাননের পাবলিক প্রসিকিউটর দামেস্কের কাছে তার প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছেন। সোমবারের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানা গেছে।

লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, আদেল ইসা অতীতে সিরীয় সেনাবাহিনীর ১৭তম ডিভিশনের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সালের শেষভাগ পর্যন্ত তিনি ইরাক সীমান্তবর্তী দেইর আজ জৌর প্রদেশে স্থলবাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুতির পর সিরিয়ার পুরনো শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া জোরদার হয়েছে। ইতোমধ্যেই আসাদের চাচাতো ভাই আতেফ নাজিবের বিচার কার্যক্রম চলছে, যিনি ২০১১ সালের গণঅভ্যুত্থানে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত। আসাদ সরকার ও এর সহযোগী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এই আইনি তৎপরতা সিরিয়ার দীর্ঘ গৃহযুদ্ধের পর দেশটিতে চলমান বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%