AdvertisementAdvertisement

ভ্যাট জটিলতায় বন্ধের পথে দেশীয় ভুট্টার তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমআরটি অ্যাগ্রো

ময়মনসিংহের কৃষিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এমআরটি অ্যাগ্রো ভুট্টার দানা থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদনের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে তেল সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণ করলেও, উচ্চহারের ভ্যাট জটিলতায় এখন প্রতিষ্ঠানটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। উৎপাদিত প্রতি লিটার তেলে সাড়ে ১৭ টাকা ভ্যাট প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকায় লোকসানের মুখে পড়ে গত দুই মাস ধরে তাদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে এক লিটার ভুট্টার তেল উৎপাদন খরচ ১৭০ টাকা। টিসিবির সাথে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী প্রতি লিটার তেল ১৭৫ টাকা মূল্যে সরবরাহের কথা থাকলেও, ভ্যাট কাটার পর আয় দাঁড়াচ্ছে ১৫৭ টাকায়। এতে প্রতি লিটার তেল বিক্রিতে তাদের ২০ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা কোনো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পক্ষেই দীর্ঘমেয়াদে বহন করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে চুক্তির ১৫ শতাংশ বা ৩ লাখ লিটার তেল সরবরাহ করা হলেও ভ্যাট সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় পুরো প্রকল্প এখন বন্ধ হওয়ার পথে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এমআরটি অ্যাগ্রোর পরিচালক রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বাজারে ভুট্টার তেলের বর্তমান দাম ১৯০ টাকা। স্থানীয় উৎপাদক হিসেবে ভ্যাটমুক্ত সুবিধা পাওয়ার কথা থাকলেও, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এসআরওতে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি এই ছাড় পাচ্ছে না। রাইস ব্রান বা শর্ষে তেলের মতো ভুট্টার তেলকেও ভ্যাটমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, এই সুবিধা পেলে আমদানি নির্ভরতা কমার পাশাপাশি দেশে নতুন অনেক উদ্যোক্তা তেল উৎপাদনে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ভুট্টার তেলের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার কথা স্বীকার করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষিবিদ কামরুল ইসলাম জানান, ভুট্টার তেলের পুষ্টিগুণ সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের সমপর্যায়ে রয়েছে। সঠিক বিপণন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে এটি ভোক্তা পর্যায়ে বিপুল জনপ্রিয়তা পেতে পারে। দেশের বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেলের চাহিদাই মূলত আমদানিনির্ভর, যা স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কমানো সম্ভব।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং টিসিবি উভয়ই জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে ভ্যাট প্রত্যাহারের সুপারিশ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশীয় শিল্পের বিকাশ ও স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় এই কর ছাড় অতীব জরুরি। তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, বাজেট পাস হওয়ার পর নতুন করে কর ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বেশ জটিল একটি প্রক্রিয়া। তবুও বিনিয়োগকারীদের টিকে থাকতে বিষয়টি পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকেরা।

0%
0%
0%
0%