আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দরপতন ও সোনার দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রভাবে সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন ঘটলেও উল্টো চিত্র দেখা গেছে সোনার বাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করায় তেলের বাজার স্থিতিশীল হতে শুরু করেছে। এই বাস্তবতায় নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার প্রতি ঝোঁক বাড়িয়েছেন বিনিয়োগকারীরা, যার ফলে মূল্যবান ধাতুটির দাম ঊর্ধ্বমুখী অবস্থানে রয়েছে।
সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়ে ৮৩.৩৩ ডলারে নেমে এসেছে। ইরানের ওপর নতুন করে বড় কোনো সামরিক হামলা থেকে বিরত থাকার মার্কিন সিদ্ধান্তের কারণে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন সমঝোতার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ না করায় তেলের বাজারে অস্থিরতার শঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
সোনার বাজারের ইতিবাচক ধারার পেছনে ডলারের বিনিময় হার ও জাপানি ইয়েনের প্রভাবকেও বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাপানের কর্তৃপক্ষ বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করায় মার্কিন ডলারের মান কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে, যার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারে নির্ধারিত সোনার দাম তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টা ৩৭ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে ৪,০৬৮.৫৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সোনার ফিউচারের দাম ০.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,০৬৬.৬০ ডলারে পৌঁছায়।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানান, সপ্তাহের শুরুতে সোনার বাজারে চাঙা ভাব দেখা গেলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সংক্রান্ত আসন্ন প্রতিবেদনগুলোর ওপর বাজারের গতিপ্রকৃতি নির্ভর করছে। অকৃষি খাতের কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব ভাতার তথ্য যদি শক্তিশালী হয়, তবে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বৃদ্ধির পথে হাঁটতে পারে, যা সোনার বাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার দ্রুত বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সোনার আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এই ধাতু থেকে কোনো নিয়মিত সুদ পাওয়া যায় না। তবুও স্বল্পমেয়াদে মৌসুমি চাহিদার কারণে সোনার দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে বলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষকরা আভাস দিয়েছেন।
মূল্যবান ধাতুর এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রুপার দাম ১.৪ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৫৮.৪৬ ডলারে উন্নীত হয়েছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১,৬৫০.৬৩ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৬ শতাংশ বেড়ে ১,২৯৩.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজারের বর্তমান অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা বিবেচনায় বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের তথ্যের দিকে গভীর নজর রাখছেন।
