AdvertisementAdvertisement

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতির কবলে বাংলাদেশ এডিবির পূর্বাভাসে উদ্বেগ

চলতি অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। তাদের প্রকাশিত এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক জুলাই সংস্করণে জানানো হয়েছে, এ বছর বাংলাদেশের গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির এই হার উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পেছনে জ্বালানি তেলের দাম, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়কে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে এডিবি। সংস্থাটির মতে, পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দামের ওপর জ্বালানি খরচের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, যা মূল্যস্ফীতি কমার গতিকে শ্লথ করে দেবে। এছাড়া বিনিময় হারের অস্থিতিশীলতা এবং খাদ্য ও সেবা খাতে অব্যাহত চড়া দাম পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে টানা তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করছে। জুনে মূল্যস্ফীতির হার ৯ দশমিক ১৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা সাধারণ মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতাকে সংকুচিত করে ফেলেছে। জাতীয় মজুরি হার বৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি হওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতির এমন বাস্তবতায় ব্যক্তিগত ভোগব্যয় হ্রাস পেয়েছে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বৈদেশিক বাজারে দুর্বল চাহিদা ও রপ্তানি খাতের বিদ্যমান প্রতিকূলতা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। একইসঙ্গে সারের স্বল্পতা কৃষি উৎপাদনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব খাদ্যপণ্যের বাজারে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এডিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশের পরে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি মূল্যস্ফীতি হতে পারে পাকিস্তানে, যা ৮ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। এছাড়া আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ, নেপালে ৫ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ভারত, ভুটান ও মালদ্বীপে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশের ঘরে সীমাবদ্ধ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তান কঠোর আর্থিক নীতি অনুসরণ করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও বাংলাদেশ গত চার বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চক্রে আটকে আছে। বিশ্লেষকদের মতে, মজুরি বৃদ্ধির হারের তুলনায় পণ্যের বাজারমূল্য বেশি হওয়ায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত আয় হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে সংসার চালাতে অনেককে ধারদেনার আশ্রয় নিতে হচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা সহায়তা করলেও সামগ্রিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদী সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই।

0%
0%
0%
0%