সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দ্বিগুণ: বিপাকে মধ্যবিত্ত ও পেনশনাররা

নতুন বাজেট প্রস্তাবনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর উৎস কর বা অগ্রিম আয়করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থবিলে উত্থাপিত এই প্রস্তাবনার ফলে স্বল্প আয়ের বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সরাসরি আর্থিক চাপে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সঞ্চয়পত্র থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশের ওপর করের বোঝা দ্বিগুণ হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত নিট মুনাফার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।
অর্থনীতিবিদ ও পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ এই কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশাজনক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অবিলম্বে এই কঠোর পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা বা বাতিলের দাবি জানিয়ে বলেছেন, এতে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়প্রবণতা বাধাগ্রস্ত হবে। মূল্যস্ফীতির এই সংকটময় সময়ে মুনাফার ওপর বর্ধিত কর আরোপ মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, করদাতার টিআইএন বা কর শনাক্তকরণ নম্বর থাকলে রিটার্ন দাখিলের মাধ্যমে অতিরিক্ত কেটে রাখা কর ফেরত পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র ভিন্ন, কারণ সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগকারী বিপুল সংখ্যক সাধারণ নাগরিকের টিআইএন নেই এবং কর নথির জটিল প্রক্রিয়ার কারণে অর্থ ফেরতের বিষয়টি তাদের জন্য দুঃসাধ্য। এহেন পরিস্থিতিতে করের টাকা ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াটি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, সরকারি নীতি নির্ধারণী পর্যায় থেকে সঞ্চয়পত্রের কর কাঠামো নিয়ে অহেতুক ভীতি না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জমান মজুমদার দাবি করেছেন যে, সঞ্চয়পত্রের নিয়মনীতিতে বড় কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে করের হারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে, তা অর্থনীতিবিদদের পর্যবেক্ষণ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
