সাভারে স্থানান্তরের দশ বছর পার হলেও সংকটে চামড়া শিল্প নদী দূষণ ও ব্যবস্থাপনা বিপর্যয়ে গভীর উদ্বেগ

বুড়িগঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল ট্যানারি শিল্প। কিন্তু প্রায় এক দশক পর সেই উদ্দেশ্য চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে হেমায়েতপুরে ধলেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বেহাল দশায় বুড়িগঙ্গার পাশাপাশি ধলেশ্বরী নদীও চরম দূষণের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার- পিপিআরসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ভবিষ্যৎ কি ফিকে হয়ে আসছে’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর প্রক্রিয়াটি ছিল অসম্পূর্ণ। এই সংকট উত্তরণে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপি কার্যকর করা এবং হাজারীবাগে ফেলে আসা ট্যানারিমালিকদের জমির যথাযথ ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ- সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নুরুল আমিন এবং কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মণ্ডলের মতো বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. টিপু সুলতানসহ খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। আলোচকরা একমত পোষণ করেন যে, নতুন প্রবৃদ্ধির চালক ছাড়া দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করা কঠিন, আর সেই সম্ভাবনাময় খাতের অন্যতম হলো চামড়া শিল্প।

হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, চামড়া শিল্পনগরীকে বিসিকের অধীনে ন্যস্ত করা একটি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। শিল্পটিকে গতিশীল করতে আগামী এক বছরের মধ্যে এর প্রশাসনিক দায়িত্ব বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের অধীনে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতিকে চাঙা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ৬০ হাজার কোটি টাকার যে তহবিল ঘোষণা করেছে, তার আওতায় থাকা ২০ হাজার কোটি টাকার প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম থেকে চামড়া খাত বিশেষ সুবিধা নিতে পারে। সঠিক নীতি সহায়তা এবং সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে এই খাতটি দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবে বলে তিনি মনে করেন।

বিজ্ঞাপন
0%
0%
0%
0%