AdvertisementAdvertisement

কালোটাকা সাদা করার সুযোগ আত্মঘাতী ও অনৈতিক: টিআইবির তীব্র প্রতিক্রিয়া

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে কোনো প্রকার আইনি যাচাই-বাছাই ছাড়াই নিঃশর্তভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রদানের সরকারি উদ্যোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। দুর্নীতিসহায়ক এই বিতর্কিত পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সুশাসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংস্থাটি সতর্ক করেছে। টিআইবি মনে করছে, আবাসন খাতে স্থবিরতা দূর করা কিংবা বিনিয়োগ বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতিকে বৈধতা দেওয়ার শামিল, যা কেবল সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিতই করবে না বরং অনিয়মের সংস্কৃতিকে আরও সংহত করবে।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার নানা কৌশলে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিয়ে সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের চেতনার পরিপন্থী চর্চা জারি রেখেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অনৈতিক ধারা বন্ধ করার পর, বর্তমান সরকারের পুনরায় তা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা এক ধাপ এগিয়ে দুই ধাপ পিছিয়ে পড়ার সমতুল্য। তিনি মন্তব্য করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের অঙ্গীকার নিয়ে গঠিত সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাদের ভাবমূর্তিকে সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

জাতীয় জুলাই সনদের ৬৭ ধারায় ব্যক্তির অনুপার্জিত আয় ভোগ করার সুযোগ বন্ধের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করেছে। অথচ গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, আবাসন খাতের লবির প্রভাবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ না রেখেই এই ‘দায়মুক্তি’ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অতীতে বারবার কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দিলেও তা জাতীয় রাজস্ব আদায়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সাফল্য বয়ে আনেনি, বরং দুর্নীতির প্রতি সরকারের নমনীয় মনোভাবের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে সরকারের সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরিকল্পনার বিষয়ে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশ থেকে অবৈধ সম্পদ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগটি ইতিবাচক হলেও এর পেছনে কোনো কারসাজি থাকা উচিত নয়। অবৈধ পন্থায় উপার্জিত অর্থ যারা পাচার করেছে, তারা যেন কোনোভাবেই সাধারণ ক্ষমার আওতায় না আসতে পারে, সে বিষয়ে সরকারকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব উপেক্ষা করে জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কারের দিকে নজর দেওয়ার ওপর জোর দিয়েছে টিআইবি।

0%
0%
0%
0%