মধ্যপ্রাচ্যে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর কাছে ৮.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি অবস্থার কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন ছাড়াই দ্রুত এই অস্ত্র হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রের মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, ‘অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন’-এর আওতায় কংগ্রেসের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থে’ এসব অস্ত্রের ‘অবিলম্বে বিক্রয়’ প্রয়োজন—এই মর্মে একটি ‘বিস্তারিত যুক্তি’ প্রদান করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অবিরাম মুখে পড়েছে, যা তাদের মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিঃশেষ করে দিচ্ছে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে তীব্র চাপের মুখে ফেলছে।

এই অস্ত্র বিক্রির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ইসরায়েলের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম। এছাড়া কুয়েত ২.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে যুদ্ধ কমান্ড সিস্টেম ক্রয় করবে। অনির্দেশিত রকেটকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্রে রূপান্তরিত করতে এপিকেডব্লিউএস ব্যবহৃত হয়, আর কুয়েতের যুদ্ধ কমান্ড সিস্টেম রাডার ব্যবহার করে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা সনাক্তকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।

কাতারের জন্য প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যে এপিকেডব্লিউএস এবং প্যাট্রিয়ট বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মজুত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ১৪৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এপিকেডব্লিউএস কেনার অনুমতি পেয়েছে। প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা আগত ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রজেক্টাইল প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয় এবং এটি মার্কিন সামরিক অস্ত্রের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ব্যবহার তাইওয়ান নিয়ে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট অস্ত্রের মজুত থাকলেও চীনের মতো প্রতিপক্ষের জন্য আরও বেশি অস্ত্রের প্রয়োজন হবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘যুদ্ধ-পূর্ববর্তী মজুত ইতিমধ্যেই অপর্যাপ্ত ছিল; বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতে কোনো সংঘাত দেখা দিলে মার্কিন অভিযানকে সীমিত করবে।’ মার্চ মাসে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং জর্ডানের কাছে ১৬.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পৃথক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ইউএই-এর জন্য ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সিস্টেম এবং এফ-১৬ বিমান এবং কুয়েতের জন্য বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%