গোসাইরহাটে নিজ বাড়ি থেকে মিজানুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে মিজানুর রহমান (৬০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিকেলে গোসাইরহাট পৌর এলাকার বিনটিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজিজুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার আম্বরখানা এলাকায়। তিনি দীর্ঘদিন লন্ডনে বসবাস করতেন। সেখানে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে তিনি দেশে ফিরে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট পৌর এলাকার দুলাল রাড়ির বিবাহিত মেয়ে পান্না বেগমের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্রে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং পরবর্তীতে তাকে বিয়ে করেন।
পান্না বেগম সে সময় এয়ারপোর্ট এলাকায় মিজানের ভাইয়ের একটি হোটেলে কাজ করতেন। ওই সুবাদেই তাদের পরিচয় হয়। বিয়ের সময় পান্না বেগম ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। বিয়ের ছয় মাস পর তারা গোসাইরহাট পৌর এলাকার বিনটিয়া গ্রামে বসবাস শুরু করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি চলছিল এবং প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। বাড়ির জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ছিল বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন শনিবার সকালে পান্না বেগম গোসাইরহাট উপজেলার দলি খালপাড়া গ্রামে তার বোনের বাড়িতে যান। ওই সময় মিজানুর রহমান একাধিকবার ফোন করে স্ত্রীকে ‘আমাকে মাফ করে দিও’ বলে কল কেটে দেন বলে স্বজনদের দাবি।
পরে বিকেলে পান্না বেগম বাড়িতে ফিরে মেইন গেটের সঙ্গে মিজানুর রহমানকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি চশমা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. শামসুল আরেফীন বলেন, “বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বিনটিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে ঝুলন্ত মরদেহের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যা ও অন্য কোনো কারণ—উভয় সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।