AdvertisementAdvertisement

শরীয়তপুরে মায়ের হৃদয়বিদারক সিদ্ধান্ত: দুই সন্তান ‘দত্তক’ না বিক্রি? গ্রামজুড়ে কান্নার রোল

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালির মাঝি কান্দি গ্রাম এখন এক গভীর শোকে আচ্ছন্ন। দুই সন্তানকে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে এক মায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সেই মা—সুখী বেগম। কেউ বলছেন তিনি সন্তান বিক্রি করেছেন, কেউ বলছেন, তিনি শুধু ‘দত্তক’ দিয়েছেন। কিন্তু যেভাবেই হোক, মায়ের কোলে আর নেই সেই দুই সন্তান—এই বাস্তবতাই কাঁদাচ্ছে পুরো গ্রামকে।

স্থানীয়দের ভাষায়, সুখী বেগম সম্প্রতি সন্তান ছাড়া গ্রামে ফিরে আসেন। তার পোশাক-আশাক ও আচরণে পরিবর্তন দেখে পরিবার ও প্রতিবেশীরা সন্দেহ প্রকাশ করেন। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি জানিয়ে দেন, সন্তানদের তিনি বিক্রি করেননি, বরং “ভালো জায়গায়” দিয়েছেন।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তবে অনেকের দাবি, সন্তান বিক্রির টাকায় তিনি কিনেছেন একটি দামি স্মার্টফোন। সেই অভিযোগের পর থেকেই সুখীর চারপাশে যেনো বিষাদের মেঘ নেমে এসেছে।

আবেগভরে সুখী বেগম বলেন, “আমার স্বামী মাদকাসক্ত। প্রতিদিন মারধর করে, সন্তানদের স্বীকার করে না। একা দুই সন্তান নিয়ে কষ্টে ছিলাম। আমি চেয়েছি ওরা যেনো ভালো থাকে, মানুষের মতো মানুষ হয়। তাই বাধ্য হয়েই ভালো ঘরে দিয়েছি তাদের।”

Advertisement
বিজ্ঞাপন

তার চোখের জল আর কণ্ঠের ভারী আওয়াজে উপস্থিত সবাই স্তব্ধ হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বলেন, “একজন মা কতটা অসহায় হলে নিজের বুকের ধন অন্যের হাতে তুলে দেয়?”

গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে আছে কান্না আর প্রশ্নে—
এটা কি দারিদ্র্যের নির্মমতা, না কি মায়ের ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল?

স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সত্যিকার অর্থে জানা যায়—সুখীর সন্তানরা আসলেই ‘দত্তক’ গেছেন, না কি বিক্রির শিকার হয়েছেন।

সম্পর্কিত- জানা অজানা
50%
25%
25%
0%