রায়পুরে বিয়ের প্রলোভনে নৌকায় গৃহবধূকে ধর্ষণ ও মারধর, দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক গৃহবধূকে নৌকায় তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার রাতে মেঘনা নদীতে এ অমানবিক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বুধবার রায়পুর থানায় মামলা দায়ের করলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা হলেন উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের চরঘাসিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুর রহমান ও তার ভাই মহিম। দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্র ধরে ট্রলারচালক আবদুর রহমান বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীকে রাতে মেঘনা নদীর চরে নিয়ে যান। একপর্যায়ে নৌকার ভেতর তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
এ সময় ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত আবদুর রহমানকে আটক করে স্থানীয় ইউপি সদস্য হানিফ দেওয়ানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে বিয়ের বিষয়ে মীমাংসার চেষ্টা করা হলে, অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে ওই গৃহবধূকে বেধড়ক মারধর করে আহত করেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
আইনি প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী নারী বুধবার দুপুরে থানায় মামলা দায়ের করার পর বিকেলে তার শারীরিক পরীক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই দিনে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, বিয়ের প্রলোভন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ও ভুক্তভোগীর পরিবার দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
