পাবনায় শাবল দিয়ে পোষা কুকুর হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের

পাবনার চাটমোহর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আগশোয়াইল গ্রামে ধারালো শাবল দিয়ে আঘাত করে একটি পোষা কুকুর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে গ্রামটিতে ঘটে যাওয়া এই বর্বরোচিত ঘটনায় স্থানীয় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কুকুরটির মৃতদেহ উদ্ধার করেন এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক সোলায়মান প্রামাণিক জানান, সকালে তিনি বাড়ির বাইরে মাঠে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। বাড়িতে ফিরে তিনি দেখেন তাঁর শখের পোষা কুকুরটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, প্রতিবেশী রাশেদুল ইসলামের ছেলে নাইম হোসেন ধারালো শাবল দিয়ে আঘাত করে কুকুরটিকে হত্যা করেছে। তবে কী কারণে এমন নৃশংসতা চালানো হলো, তা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন।
অভিযুক্ত নাইম হোসেনের দাবি, কুকুরটি প্রায়ই এলাকার ছাগল ও মুরগির ওপর আক্রমণ করত এবং লোকজনকে কামড়ানোর ভয় দেখাত। গবাদিপশু রক্ষার স্বার্থে এবং অতিষ্ঠ হয়েই তিনি কুকুরটিকে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, পোষা প্রাণীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব মালিকেরই, অথচ তা করা হয়নি।
চাটমোহর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার সরকার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল থেকে কুকুরটির মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুকুরটির পাঁজর বিদ্ধ হয় এবং ফুসফুসে গুরুতর জখমের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন শিগগিরই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সোলায়মান প্রামাণিক বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
