ফেনীতে জব্দ করা ৬৭ লাখ টাকার সরকারি বালু লোপাট ঘটনায় মামলা ও আটক ৩

ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের জয়পুর এলাকায় ফেনী নদী থেকে জব্দ করা দুই লাখ ২৩ হাজার ৮৩০ ঘনফুট বালু রহস্যজনকভাবে গায়েব হয়ে গেছে। আদালতের নির্দেশে পরিচালিত তদন্তে সরকারি সম্পদ লোপাটের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খোয়া যাওয়া এই বালুর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৭ লাখ ১৪ হাজার ৯০০ টাকা বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় আদালতের নির্দেশে জব্দকৃত বালুর পরিমাণ নির্ধারণের সময়। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদুল ইসলাম সরেজমিনে ১৭০টি বালুর স্তূপ পরিমাপ করে প্রতিবেদন দাখিল করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আদালতের নির্দেশে পুনরায় যাচাই-বাছাই ও পরিমাপ করলে আগের প্রতিবেদনের সাথে বাস্তব পরিস্থিতির বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে। এতেই সরকারি বালু চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এ ঘটনায় ছাগলনাইয়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে দণ্ডবিধির ৩৭৯/৩৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ চক্রটি এই বালু চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ এখন পর্যন্ত তিনটি ট্রাকসহ তিন চালককে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো জয়পুর গ্রামের শাহাবুদ্দিন, ফজলুল করিম এবং নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার মমিনুল হক। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে দুই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু চুরির সত্যতা পাওয়া গেলেও এর নেপথ্যের মূলহোতাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। এই বালুর নিয়ন্ত্রণ ও এর থেকে প্রাপ্ত অর্থের ভাগাভাগি নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী বিভিন্ন মহলের মধ্যে দ্বন্দ্বের বিষয়টিও স্থানীয়দের আলোচনায় উঠে আসছে।
সরকারি বালু চুরির ঘটনায় তদন্ত চলছে জানিয়ে ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক জানান, বিষয়টি এখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এখতিয়ারভুক্ত। তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, কেবল ট্রাকচালক বা শ্রমিকদের গ্রেপ্তার করলেই প্রকৃত অপরাধীরা পার পেয়ে যাবে। সরকারি সম্পদ লুটপাটের সাথে জড়িত মূলহোতা এবং নেপথ্যের কুশীলবদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য স্থানীয়রা জোরালো দাবি জানিয়েছেন।