চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুই বিদেশি জাহাজের সংঘর্ষ ইঞ্জিন রুমে পানি প্রবেশ

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে শুক্রবার দুপুরে দুটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বন্দরের ‘আলফা’ অ্যাঙ্করেজ এলাকায় লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী গমবাহী জাহাজ ‘সানশাইন’ এবং মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী তেলবাহী ট্যাঙ্কার ‘সি স্পাইক’-এর মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনায় ‘সানশাইন’ জাহাজের খোলের একাংশ দুমড়ে-মুচড়ে গিয়ে ইঞ্জিন রুমে পানি ঢুকতে শুরু করলে জাহাজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বেসরকারি আমদানিকারকের ৫২ হাজার টন গম নিয়ে ‘সানশাইন’ জাহাজটি বহির্নোঙরে নোঙর করা ছিল। একই সময় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসা ট্যাঙ্কার ‘সি স্পাইক’ নোঙর করার প্রক্রিয়া শুরু করলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গমবাহী জাহাজটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। তবে সৌভাগ্যবশত সংঘর্ষের ঘটনায় কোনো নাবিক বা ক্রু হতাহত হননি।
খবর পেয়েই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পাইলট দল, উদ্ধারকারী টাগবোট ‘কাণ্ডারি-৮’ এবং কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। বর্তমানে জাহাজ থেকে পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই ‘সি স্পাইক’ ট্যাঙ্কারটি নোঙর করার প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের নিজস্ব পাইলটের পরিবর্তে ‘বে পাইলট’ ব্যবহারের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে সি স্পাইক জাহাজের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বহির্নোঙরের নির্দিষ্ট সীমানায় বে পাইলট দিয়ে জাহাজ পরিচালনা করার নিয়ম রয়েছে।
সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে একটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে জাহাজ দুটি বন্দরের তদারকিতে রয়েছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বন্দর এলাকায় জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন।
