অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যক্রমে সরকারের হস্তক্ষেপ নেই জানালেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী

অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠন এবং এর সুপারিশমালা নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত সরকার। রাজ্যসভায় এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন যে, অষ্টম বেতন কমিশনের কার্যপ্রণালী কিংবা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরকারের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ নেই। কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং সুপারিশ তৈরির ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ স্বায়ত্তশাসন রয়েছে।
রাজ্যসভার সাংসদ জাভেদ আলি খানের উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর এই কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারির পর থেকেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজস্ব নিয়ম ও পদ্ধতিতে কাজ করে যাচ্ছে। কমিশনের কার্যপরিধিতে নিয়মিতভাবে সরকারকে তাদের অগ্রগতি বা অভ্যন্তরীণ বৈঠকের তথ্য জানানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে কমিশন এখন পর্যন্ত কতগুলো বৈঠক করেছে কিংবা কোন কোন কর্মচারী সংগঠনের সাথে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে ব্যাপক জল্পনা চলছে। কর্মচারী সংগঠনগুলোর একটি বড় অংশ ৩.৬৮ হারে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে, আবার কেউ কেউ ৩.০ থেকে ৩.৫ পর্যন্ত হার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া পরিবারের আকার অনুযায়ী তিন সদস্যের পরিবর্তে পাঁচ সদস্যের পারিবারিক ইউনিটকে ভিত্তি ধরে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণের দাবিও তোলা হয়েছে। তবে এসব দাবির বিষয়ে ভারত সরকার কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে।
কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কার্যক্রম শুরুর তারিখ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদন সরকারের কাছে পৌঁছাতে পারে। এরপর ভারত সরকার প্রাপ্ত সুপারিশগুলো চুলচেরা বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। আপাতত কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন বৃদ্ধি বা আর্থিক সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে কমিশনের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস
