AdvertisementAdvertisement

ফেনীতে নদীভাঙনের তীব্র আতঙ্ক দিশেহারা হাজারো পরিবার স্থায়ী সমাধানের দাবি

ফেনীর সোনাগাজী ও দাগনভূঞা উপজেলার ছোট ফেনী, ফেনী ও কালীদাস পাহালিয়া নদীর তীরবর্তী জনপদগুলো বর্তমানে ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্ষার অঝোর ধারা ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল চাপে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে শত শত বসতভিটা, আবাদি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। প্রতিনিয়ত ঘর হারানোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে সোনাগাজী, দাগনভূঞা ও ফেনী সদর এবং নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী লাখো মানুষের।

ষাটোর্ধ্ব আবুল কাশেমের মতো ভুক্তভোগীরা জানান, গত এক বছরে তিনবার বাড়ি সরিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। এখন মাথার ওপর সামান্য ছাউনিটুকু নিয়েও তিনি অনিশ্চয়তায় দিনাতিপাত করছেন। একই করুণ চিত্র দেখা গেছে রোকেয়া বেগমের পরিবারে, যার স্বামীর কবরটি পর্যন্ত নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। প্রিয়জনের শেষ স্মৃতিটুকুও ধরে রাখতে না পারার হাহাকার এখন নদীপাড়ের বাসিন্দাদের নিত্যসঙ্গী।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

সোনাগাজীর চরমজলিশপুর, চরদরবেশ, চরচান্দিয়া ও বগদানা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার পাশাপাশি দাগনভূঞার মাতুভূঞা ইউনিয়ন এবং ফেনী সদরের বালিগাঁও ইউনিয়নের অনেক গ্রাম এখন মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার অপেক্ষায়। নদীভাঙনের ফলে সোনাগাজী উপজেলার আয়তন ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত দুই বছরে তিন শতাধিক ঘরবাড়ি নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে গেছে, যার ফলে অসংখ্য মানুষ আজ গৃহহীন ও সর্বস্বান্ত।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধের নামে কেবল দায়সারাভাবে জিওব্যাগ ফেলে, যা কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত মুসাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণই ভাঙন রোধের একমাত্র কার্যকর উপায়। জোয়ারের সময় এই ভাঙা ক্লোজার দিয়ে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং ভাটার টানে তীব্র স্রোতে তীরবর্তী মাটি ধসে পড়ছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভাঙন রোধে ৪৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন কিলোমিটার এবং ৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে আরও ছয় কিলোমিটার এলাকা রক্ষায় প্রকল্প চলমান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া রয়েছে। মুসাপুর ক্লোজার পুনর্নির্মাণের বিষয়টি পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে সরকারি এসব উদ্যোগের তোড়জোড়ের চেয়ে বাস্তবের কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় নদীতীরবর্তী অসহায় মানুষ, যাদের চোখের সামনে প্রতিদিন হারিয়ে যাচ্ছে সাজানো সংসার।

0%
0%
0%
0%