AdvertisementAdvertisement

দানিয়ুব নদের পানি হ্রাস: হাঙ্গেরির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধের ঘোষণা

দানিয়ুব নদের জলস্তর আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় হাঙ্গেরি তাদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্যাকস বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ৪৪ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এ ধরনের সম্পূর্ণ অচলাবস্থা দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধরনের সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাগিয়ার জানিয়েছেন, রবিবার কেন্দ্রটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে, যা দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় অর্ধেক জোগান দেয়।

শুক্রবার থেকেই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক নিচে নেমে যায়। সাধারণত দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও শুক্রবার তা ৯৬৫ মেগাওয়াটে নেমে আসে এবং রাতারাতি উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ২৪০ মেগাওয়াটে ঠেকে। সোভিয়েত আমলের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শীতলীকরণের জন্য দানিয়ুব নদের পানির ওপর নির্ভরশীল, কিন্তু নদের নজিরবিহীন নিম্ন জলস্তর পাম্পগুলোর পানি নিষ্কাশন ক্ষমতাকে অকার্যকর করে তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

প্যাকস এলাকায় দানিয়ুবের জলস্তর মাইনাস ১৩৪ সেন্টিমিটারে নেমে এলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়ে। বর্তমান পরিস্থিতি ২০১৮ সালের ৯৮ সেন্টিমিটারের পূর্ববর্তী রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে মাইনাস ১৪৪ সেন্টিমিটারে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জার্মানি থেকে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত প্রবহমান দানিয়ুব নদসহ ইউরোপের বিভিন্ন নদ-নদীতে দীর্ঘস্থায়ী দাবদাহ ও খরার ফলে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দেশজুড়ে পানি সংকট মোকাবিলায় হাঙ্গেরি সরকার একশোর বেশি শহর ও গ্রামে কঠোর জল ব্যবহার বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। একই সঙ্গে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে পানি ব্যবহার কমিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশটির কৃষি, পর্যটন ও নৌ-চলাচল ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, যা আগে থেকেই ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চাপে ছিল।

প্রতিবেশী দেশ স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকো জানিয়েছেন, তারা হাঙ্গেরির বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে সহযোগিতার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ুর এই চরম বৈরী আচরণ মূলত মানুষ্যসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনেরই প্রতিফলন, যা মে মাস থেকে ইউরোপজুড়ে ধারাবাহিক দাবদাহের মাধ্যমে ফুটে উঠছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%