কেশবপুরে অবৈধ রাসায়নিক কারখানার দূষণে বিপন্ন জনজীবন ও পরিবেশ, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের

যশোরের কেশবপুর সদর ইউনিয়নের খতিয়াখালী গ্রামে গড়ে ওঠা একটি অবৈধ রাসায়নিক কারখানার বিষাক্ত বর্জ্যে জনজীবন ও পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কারখানাটির মালিক রুহুল আমিন কোনো প্রকার পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই বছরের পর বছর ধরে অ্যাসিড ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ করছেন। এতে এলাকার কৃষি জমি, গবাদিপশু, গাছপালাসহ জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্যামকুড় গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন অধিক মুনাফার লোভে লোকালয়ের কাছেই এই কারখানা স্থাপন করেছেন। কারখানার বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি না থাকায় অ্যাসিড মিশ্রিত হাজার হাজার লিটার বিষাক্ত পানি সরাসরি কৃষিজমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় ফেলা হচ্ছে। ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পানি ও মাটি লাল বর্ণ ধারণ করেছে এবং চারপাশের আম, নারিকেল ও সুপারি গাছসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বর্ষাকালে দূষিত পানি প্রায় ২০ একর জমিতে ছড়িয়ে পড়ে, যা কৃষকদের চর্মরোগসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কারখানাটিতে লোহার সামগ্রী রং করার কাজে চোরাইপথে আনা ভারতীয় রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই প্রতারণামূলক ব্যবসার মাধ্যমে মালিক রাতারাতি কোটিপতি বনে গেলেও এলাকাবাসী চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। কারখানার বিকট শব্দ ও রাসায়নিকের উৎকট গন্ধে শিশু ও বয়স্কদের শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পক্ষ থেকে কারখানটির মালিকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানটি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
কারখানার মালিক রুহুল আমিন তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে দায়সারাভাবে মন্তব্য করেছেন যে, রাসায়নিক কারখানায় কিছুটা দূষণ হওয়া স্বাভাবিক। এদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন জানিয়েছেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।