সিরাজগঞ্জে বেহাল সড়কে জনদুর্ভোগ ও অকেজো সিসি ক্যামেরায় নিরাপত্তা শঙ্কা

সিরাজগঞ্জ পৌরসভার গয়লা-একডালা প্রধান সড়কটি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সংস্কারের অভাবে বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি ও কাদার আস্তরণ জমে যাচ্ছে। নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ায় ময়লাযুক্ত পচা পানির দুর্গন্ধে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম জনদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এই বেহাল সড়কে রিকশা ও ভ্যান উল্টে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা, যার ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী রোগীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিকবার পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে ধরনা দিলেও মেলেনি কোনো সুরাহা। কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আবুজর গিফারীসহ ভুক্তভোগীরা জানান, বিগত বছরগুলোতে জনপ্রতিনিধিরা কেবল উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিই দিয়ে গেছেন, কিন্তু বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। রিকশাচালক ও সাধারণ পথচারীরা এই পথে যাতায়াত করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। কর প্রদান করেও নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত এলাকাবাসী এখন দ্রুত সড়ক মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম অবশ্য দাবি করেছেন, অবহেলিত ওয়ার্ডগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং খুব দ্রুতই কাজ শুরু হবে। তবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন গয়লা ও একডালা এলাকার সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জ শহরে স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো দীর্ঘদিনের অযত্ন ও তদারকির অভাবে অকেজো হয়ে পড়েছে। ২০২১ সালে শহরের ৬৫টি পয়েন্টে ১০০টি আধুনিক ক্যামেরা বসানো হলেও বর্তমানে ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা কার্যত অচল। নজরদারির এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শহরে চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত তিন মাসে পৌর এলাকায় অন্তত ৪০টি চুরির ঘটনা ও ১৭টি মারামারির অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে।
শহরের ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অপরাধী শনাক্তকরণে সিসি ক্যামেরাগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সম্মতিতে শহরের ১১৮টি পয়েন্টে নতুন করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সচল হলে জনমনে স্বস্তি ফিরবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।