টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূকে হত্যার পর আত্মহত্যা সাজানোর ঘটনায় স্বামী গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পূর্ব বালিগাঁও এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গত ৬ জুলাই রাতে আসমা নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক মুহাসিন স্বীকার করেছেন যে, দাম্পত্য কলহের জেরে গত ৬ জুলাই সকালে স্ত্রীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা হয়। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে তিনি আসমাকে মারধর করেন এবং গলার ওপর চাপ প্রয়োগ করে তাকে ধাক্কা দেন। এতে আসমা গুরুতর আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। পরে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কালো ওড়না ব্যবহার করে আসমার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে তিনি একে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেন। ঘটনার পরপরই তিনি চার বছর বয়সী কন্যাকে নিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান।
পিবিআইয়ের ক্রাইমসিন টিমের সূক্ষ্ম তদন্তে এই মৃত্যুর পেছনে পরিকল্পিত হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে আদালতে আসামি ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে নিহতের পরিবারে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।