আট মাসে নিজ হাতে পবিত্র কুরআন লিখে অনন্য নজির গড়লেন কুমিল্লার সুরাইয়া জান্নাত

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার মুদাফরগঞ্জ এ.ইউ. ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার আলিম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুরাইয়া জান্নাত নিজ হাতে সম্পূর্ণ ৩০ পারার পবিত্র কুরআন মাজিদ লিখে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করেছেন। মাত্র আট মাসের নিরলস সাধনায় তিনি কুরআনুল কারিমের প্রতিটি পৃষ্ঠা অত্যন্ত নিখুঁত ও দৃষ্টিনন্দনভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, যা দেখে মুদ্রণ শিল্পকেও হার মানায়। তার এই ব্যতিক্রমী ও অনুকরণীয় অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সংবর্ধনা ও সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়েছে।
গত ২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে কান্দিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সুরাইয়া জান্নাতকে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাশেদা আক্তার, লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সুরাইয়ার এ ধৈর্যসাধ্য কাজকে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে অভিহিত করেন।
উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চাঁদগাঁও গ্রামের সৌদি প্রবাসী নুর হোসেন লিটন ও জান্নাতুল ফেরদৌস দম্পতির কন্যা সুরাইয়া জান্নাত জানান, সাহাবায়ে কেরামের কুরআন সংরক্ষণের ইতিহাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই মহৎ কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি লেখা শুরু করে আগস্ট মাসের শেষ নাগাদ তিনি প্রায় ৫৫টি কলম ব্যবহার করে ৬১১ পৃষ্ঠার এই কাজ সম্পন্ন করেন। মাদ্রাসার পড়াশোনার পাশাপাশি অত্যন্ত মনোযোগ ও পবিত্রতা বজায় রেখে তিনি প্রতিদিন এই সাধনা চালিয়ে গেছেন।
সুরাইয়া জানান, প্রতিবার লেখার শুরুতে তিনি অজু করে দরূদ শরিফ পাঠ করে নিতেন, যা তাকে কাজে একাগ্রতা ও প্রশান্তি দিত। তার এই দীর্ঘ যাত্রায় ছোট ভাই নাহিদ হাসান তাকে সার্বক্ষণিক অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। ভবিষ্যতে তিনি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থ ‘সহিহ বুখারি’ নিজ হাতে লেখার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন এবং দেশবাসীর নিকট দোয়া চেয়েছেন।
সুরাইয়ার মা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, শৈশব থেকেই মেয়ের আরবি লেখার প্রতি এক গভীর অনুরাগ ছিল। সন্তানের এই অসাধারণ কৃতিত্বে গর্বিত সৌদি প্রবাসী বাবা নুর হোসেন লিটন তাকে এক লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করেছেন। লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা আশা প্রকাশ করেন যে, সুরাইয়ার এই সৃজনশীল ও ইতিবাচক উদ্যোগ সমাজের অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভালো কাজে উৎসাহিত করবে।
