ধ্বংসপ্রাপ্ত সাংবিধানিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনে সরকার বদ্ধপরিকর: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত, তাই ব্যর্থ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিগত ১৮ বছরে দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ সব সাংবিধানিক কাঠামো ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। সরকার সেই ভঙ্গুর অবস্থা ও জঞ্জাল পরিষ্কার করে নতুন আঙ্গিকে রাষ্ট্রকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে।
দেশের হারানো সুস্থ ধারার সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, এরই মধ্যে বিশ্বের ৪৮টি দেশের সঙ্গে সাংস্কৃতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে পুরাকীর্তি নিদর্শন পুনরুদ্ধারে খননকাজ শুরু করা হয়েছে এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রসহ সারা দেশের পাবলিক লাইব্রেরিগুলোকে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অশ্লীল ও অশালীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বর্জনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে অশালীন নৃত্য বা অঙ্গভঙ্গির কোনো সম্পর্ক নেই। বিগত দিনের অশ্লীল যাত্রা বা অনুষ্ঠান পরিহার করে জীবনমুখী ও ঐতিহ্যভিত্তিক লোকসংস্কৃতি চর্চার ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, পুঁথিসাহিত্য, খনার বচন, লালন গীতি ও জারি-সারির মতো সমৃদ্ধ শিল্পকলা খুঁজে বের করে তা সংরক্ষণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান লিটন এবং অঙ্কুর নাট্য একাডেমির পরিচালক নাজিমুদ্দিন জুলিয়াস।