সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় মোংলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও আলোচনা সভা

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার মিঠাখালী বাজারে বিশ্ব বাঘ দিবস উপলক্ষে বুধবার সকালে ‘সুন্দরবন বাঁচাও, বাঘ বাঁচাও’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), পশুর রিভার ওয়াটারকিপার, বাদাবন সংঘ ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নেয়। আলোচনা সভার আগে মিঠাখালী ও চাঁদপাই বাজার এলাকায় একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়, যেখানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা বাঘ এবং সুন্দরবন রক্ষার দাবিতে সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গত এক শতকে বিশ্ব থেকে প্রায় ৯৩ শতাংশ বাঘ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। উনিশ শতকে বিশ্বের ৩৩টি দেশে প্রায় এক লাখ বাঘ থাকলেও বর্তমানে মাত্র আটটি দেশে প্রায় চার হাজার বাঘ টিকে আছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। এক সময় পূর্ব বাংলার ১৭টি জেলার মধ্যে ১১টিতেই বুনো বাঘের বিচরণ থাকলেও আজ সেই সংখ্যা ভয়াবহভাবে হ্রাস পেয়েছে।
ধরা’র কেন্দ্রীয় নেতা ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার পরিবেশযোদ্ধা মো. নূর আলম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার। এছাড়া সমাজসেবক শেখ রুস্তুম আলী, গোলাম রসুল, শাহ আলম শিপন, এম. রেজাউল ইসলাম, নাজমুল হক, জানে আলম বাবু, মোল্লা আল মামুন, মঈন গাজী, আরাফাত দূর্জয় ও মেহেদী হাসানসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।
সভাপতির বক্তব্যে মো. নূর আলম শেখ বলেন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাঘ চোরাচালান চক্র সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে, যারা বাঘ হত্যা করে দেহের বিভিন্ন অংশ বিদেশে পাচার করছে। এসব অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বন পাহারা আরও জোরদার করার দাবি জানান তিনি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল মান্নান হাওলাদার বলেন, রয়েল বেঙ্গল টাইগার আমাদের জাতীয় গর্ব ও শক্তির প্রতীক। সুন্দরবন ও বাঘ রক্ষায় রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে সম্মিলিতভাবে কাজ করা সময়ের দাবি।
দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিকেলে মিঠাখালী মাঠে বাঘ ও সুন্দরবন সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে ব্যতিক্রমী ‘বাঘ মহড়া’ এবং একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবিদদের মতে, বাঘ ও সুন্দরবন রক্ষা করা কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের কাজ নয়, বরং দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্র ও সচেতন নাগরিকের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি।