বগুড়ায় পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমি স্থাপন ও বহরে যুক্ত হচ্ছে ৩৫ নতুন উড়োজাহাজ

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বগুড়ায় একটি অত্যাধুনিক পাইলট ট্রেনিং একাডেমি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকার বনানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই পরিকল্পনার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের মধ্যে ২১টি নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণে এক নতুন মাইলফলক। প্রতিমন্ত্রী জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এই ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাহিদা পূরণে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ তাদের বহরে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশকে এশীয় এভিয়েশন হাব হিসেবে বৈশ্বিক প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও জ্বালানিসংকটের কারণে জেট ফুয়েলের ঊর্ধ্বমুখী দাম বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর পরিচালন ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি করছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

বেসরকারি খাতের এয়ারলাইনসগুলোর দাবি অনুযায়ী কর ছাড়সহ অন্যান্য আর্থিক সহায়তার বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন উপদেষ্টা। অন্যদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এই উদ্যোগকে দেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্য যুগান্তকারী অর্জন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন এসব উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে ইউএস-বাংলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন, বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রেগি এবং জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের এই নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর বিকাশকে আরও গতিশীল করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

0%
0%
0%
0%