গলের মাঠে গুরনুর ব্রারের দাপট দশ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজ জিতল ভারত এ

গল টেস্টের শেষ দিনে বল হাতে বিধ্বংসী রূপ ধারণ করলেন গুরনূর ব্রার। ম্যাচে মোট ১০ উইকেট শিকার করে ভারত এ দলকে ১০ উইকেটের এক শ্বাসরুদ্ধকর জয় এনে দিলেন এই পেসার। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচের অনানুষ্ঠানিক টেস্ট সিরিজটি ১-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে সফরকারী ভারত। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ড্র হওয়ার পর গল টেস্টে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে দুর্দান্ত সাফল্য নিয়ে মাঠ ছাড়ল সফরকারীরা।
রবিবার চতুর্থ দিনে ৫৪১ রান ৮ উইকেটে নিয়ে ইনিংস শুরু করে ভারত এ দল। যশ ঠাকুর আউট হওয়ার পর দলীয় সংগ্রহে মাত্র ২ রান যোগ করেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা। প্রথম ইনিংসে ১৭৭ রানের বিশাল লিড নিয়ে শ্রীলঙ্কা এ দলকে চাপে ফেলে ভারত। বল হাতে শুরুতেই জ্বলে ওঠেন গুরনূর ব্রার। তার বিধ্বংসী স্পেলে ৯ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে লঙ্কানরা। সোহান ডি লিভেরা, নুওয়ানিদু ফার্নান্দো এবং পাওনথা উইরাসিংহের উইকেট তুলে নিয়ে স্বাগতিকদের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন গুরনূর ও আকিব নবী।
শ্রীলঙ্কা এ দলের হয়ে অ্যাশেন বান্দারা পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নেন। ৪৭ বলে ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করে তিনি লড়াইয়ের আভাস দিয়েছিলেন। কিন্তু মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আবারও আক্রমণে ফিরে আসেন গুরনূর। অ্যাশেন বান্দারা ৮৭ রান করে সাজঘরে ফেরার পরপরই লঙ্কানদের ব্যাটিং লাইনআপ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে। শেষ দিকে কেশারা নুওয়ান্তার ২৬ এবং দিলুম সুদিরা ২১ রানের ইনিংস খেললেও তা কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। গুরনূর ব্রার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন, ফলে ম্যাচে তার মোট শিকার দাঁড়ায় ১৪৫ রানে ১০ উইকেট। সারানশ জৈনও গুরুত্বপূর্ণ ২টি উইকেট নিয়ে তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন।
জয়ের জন্য ভারত এ দলের সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ৩৩ রানের। চা-বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে ৫ দশমিক ২ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। সাই সুদর্শন অপরাজিত ২৫ রান এবং আমান মোখাদে অপরাজিত ১১ রান করে দলকে অনায়াস জয় এনে দেন। সাই সুদর্শন সিরিজের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন, যা এই জয় দিয়ে পূর্ণতা পেল। আফগানিস্তান এ দলকে নিয়ে আয়োজিত ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের সাফল্যের পর টেস্ট সিরিজেও ট্রফি জিতে ভারত এ দল তাদের সফল সফর সম্পন্ন করল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর: শ্রীলঙ্কা এ দল ৩৬৬ (সাহান আরাচিগে ১২৭, নুওয়ানিদু ফার্নান্দো ৪৪; গুরনূর ব্রার ৪-৭৭, সারানশ জৈন ৪-৯২) এবং ২০৯ (অ্যাশেন বান্দারা ৮৭; গুরনূর ব্রার ৬-৬৮, সারানশ জৈন ২-৬৬)। ভারত এ দল ৫৪৩-৯ ইনিংস ঘোষণা (সাই সুদর্শন ১৬৮, দেবদূত পাডিক্কাল ৯৪; কেশারা নুওয়ান্তা ৫-১৫৯) এবং ৩৬-০ (সাই সুদর্শন ২৫*, আমান মোখাদে ১১*)। ভারত এ দল ১০ উইকেটে জয়ী।