তিস্তায় বাড়ছে পানি, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এলাকাবাসীর জোরালো দাবি

ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে লালমনিরহাটের আদিতমারীসহ তিস্তাপারের বিস্তীর্ণ জনপদে পানি বৃদ্ধির ফলে জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা প্রতি মুহূর্ত কাটাচ্ছেন চরম আতঙ্কে, বিশেষ করে গজলডোবা ব্যারেজ দিয়ে ভারত কর্তৃক একতরফা পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে প্রতিবছরই বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
গোবর্ধন চড়ের স্থানীয় কৃষক মতিউর রহমান জানান, ভারতের বন্যা পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে পানি ছেড়ে দেওয়া হয়, যার ফলে তিস্তা অববাহিকার লাখ লাখ মানুষ প্রতিবছরই অসহায় হয়ে পড়েন। দীর্ঘস্থায়ী এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয়রা কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভোটের আগে নির্বাচনী ইশতেহারে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, নির্বাচনের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন কৃষক শহীদার রহমান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এখন আর কোনো ফাঁপা আশ্বাস শুনতে চান না নদীপারের মানুষ; নিজেদের জীবন ও জীবিকা বাঁচাতে অতি দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নই এখন একমাত্র দাবি।
ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিমাপক নুরুল ইসলাম জানান, গত রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি প্রবাহে অস্থিরতা বিরাজ করায় যেকোনো সময় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী। একই সঙ্গে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার রায় সতর্কবার্তা দিয়ে জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন।