পুঠিয়া রাজবাড়ীর স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস

রাজশাহীর পুঠিয়া রাজবাড়ীর সমৃদ্ধ ইতিহাস ও স্থাপত্যশৈলী সচক্ষে দেখার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার দুপুরে পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। দুপুর সোয়া ২টার দিকে একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি ঐতিহাসিক এই স্থাপনায় পৌঁছালে স্থানীয় প্রশাসন তাকে স্বাগত জানায়। রাজবাড়ীর মনোরম পরিবেশ ও প্রাচীন নির্মাণশৈলীর নান্দনিকতা রাষ্ট্রদূতকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।

বিজ্ঞাপন

পরিদর্শনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রাজবাড়ী প্রাঙ্গণে অবস্থিত জাদুঘর, রানীরঘাট, গোবিন্দ মন্দির, আন্নিক মন্দির ও শিবমন্দিরসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ঘুরে দেখেন। তিনি প্রতিটি স্থাপনার নির্মাণশৈলী, দীর্ঘদিনের ইতিহাস এবং বর্তমানে চলমান সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। তার এই পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে পুরো রাজবাড়ী এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

সফর শেষে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পুঠিয়া রাজবাড়ীকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি এই অনন্য স্থাপত্যশৈলী সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া তারেক রহমান কর্তৃক গৃহীত রাষ্ট্রীয় নীতিমালার আলোকে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক স্থানগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়েও তিনি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূতের আগমনকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে তাকে একনজর দেখার জন্য রাজবাড়ীর আশপাশে ভিড় করেন। পরিদর্শনকালে রাজশাহী জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান, পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান, পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ও হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পুঠিয়া রাজবাড়ীর পরিচিতি ও মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। এটি ঐতিহাসিক এই স্থাপনার যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

0%
0%
0%
0%