AdvertisementAdvertisement

তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তরের মানুষের আলটিমেটাম

রংপুর নগরীর পুরাতন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে জাতীয় অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি। একই সঙ্গে তিস্তার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়। রোববার বিকেলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল। তিনি বলেন, তিস্তা কেবল একটি নদী নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে মানুষ পানির ন্যায্য হিস্যা ও সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান দৃশ্যমান হয়নি, যা এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে গভীর হতাশা ও বঞ্চনার জন্ম দিয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দীর্ঘদিন ধরে চলা নদী সংকটের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে বক্তারা জানান, প্রতি শুষ্ক মৌসুমে পানির চরম সংকটে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও নদীভাঙনে হাজারো মানুষ সর্বস্বান্ত হচ্ছে। নদীকেন্দ্রিক জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে নদী খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কমিটির সদস্য সচিব ও রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক রায়হান সিরাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তার ন্যায্য হিস্যা ও মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের জন্য অপরিহার্য। তারা চলমান জাতীয় বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ এবং আগামী জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় দ্রুত অনুমোদনের দাবি জানান। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের কাছে এই জনদাবি পূরণ এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২০ জুন বৃহত্তর মানববন্ধন কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায় লালবাগ থেকে ডিসির মোড়, তিস্তা সেতু থেকে কাউনিয়া এবং মহিপুর থেকে বুড়িরহাট পর্যন্ত পৃথকভাবে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এটিএম আজম খান, কে এম আনোয়ারুল হক কাজল, মাওলানা এনামুল হক, আব্দুল গনি এবং অ্যাডভোকেট কাওছার আলীসহ সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0%
0%
0%
0%