নেত্রকোণায় জাবি শিক্ষার্থীকে অপহরণ ও নির্যাতন: জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে অপহরণ, নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শরীফ মিয়া, যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে পূর্বধলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পূর্বধলা উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় বেড়াতে যান আটপাড়া উপজেলার শুনই গ্রামের বাসিন্দা শরীফ মিয়া। এ সময় দুই যুবক তাকে জোরপূর্বক স্থানীয় একটি ঈদগাহ মাঠে তুলে নিয়ে যায় এবং সেখানে আরও একজন যোগ দিয়ে তাকে মারধর শুরু করে। হামলাকারীরা তার কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং পরিবারের আর্থিক অনটনের কথা জানালে টাকার অংক কমিয়ে দেওয়া হয়।
একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শরীফের কাছে থাকা নগদ চার হাজার ৫৬০ টাকা, বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ১১ হাজার ৫০০ টাকা এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের দাবির বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য চাপের মুখে ফেলা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম জানান, শরীফ একজন নবীন শিক্ষার্থী এবং তার কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন এবং এরই মধ্যে নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করেছেন, তার প্রেক্ষিতে এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। অতি দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
