তিস্তায় বাড়ছে পানির প্রবাহ বন্যার আশঙ্কায় লালমনিরহাটের নদীতীরবর্তী মানুষ

লালমনিরহাট জেলায় অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের প্রভাবে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম, আদিতমারী ও সদর উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো যেকোনো সময় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া পয়েন্টের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রেখেছে।
তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমানে নদীর পানি বিপৎসীমার মাত্র ৩৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে পানি বাড়ছে। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে।
নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার মূল কারণ ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে ছেড়ে দেওয়া পাহাড়ি ঢল। হাতীবান্ধার ছয়টি ইউনিয়নসহ পাটগ্রামের দহগ্রাম, আদিতমারীর চর গোবর্ধন ও মহিষখোঁচা এবং সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর ও গোকুণ্ডা ইউনিয়নের মানুষ এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। চরাঞ্চলের কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, পানি বেড়ে চলাচলের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের দাবি, বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এই সংকট থেকে উত্তরণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি ও প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়ন প্রত্যাশা করছেন তিস্তাপাড়ের মানুষ। তারা বলছেন, ভোটের সময় রাজনৈতিক নেতাদের সরব উপস্থিতি থাকলেও, বাকি সময়ে এই জনপদের অসহায় মানুষের খবর কেউ রাখে না।