AdvertisementAdvertisement

সৈয়দপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে ক্যাম্পবাসীর সড়ক অবরোধ পাঁচ ঘণ্টা পর প্রত্যাহার

নীলফামারীর সৈয়দপুরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন উর্দুভাষী ক্যাম্পের বাসিন্দারা। বুধবার শহরের গোলাহাট এলাকায় এ কর্মসূচির ফলে গুরুত্বপূর্ণ তামান্না-ওয়াপদা সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, শত শত নারী-পুরুষ ও বয়স্ক ব্যক্তি সড়কের ওপর অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এর ফলে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ সারিতে যানবাহন আটকে পড়ে। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকায় আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

গোলাহাট ১ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা সারওয়ারী, হাসিবুন ও নিয়াজ জানান, দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ সংকটে অতিষ্ঠ হয়ে তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের অভিযোগ, সৈয়দপুরের ২৩টি অবাঙালি ক্যাম্পের মধ্যে গোলাহাট ক্যাম্পেই দীর্ঘ সময় ধরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছে।

গোলাহাট ২ নম্বর ক্যাম্পের বাসিন্দা জসিম, বাবু, সাইরুন, ওয়াজিরন ও শাহিন জানান, গত এক মাস ধরে প্রতিদিন সকাল ৬টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিকেল ৪টা বা ৫টার দিকে পুনরায় সরবরাহ করা হচ্ছে। তীব্র দাবদাহের মধ্যে এমন লোডশেডিং জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

অবরোধে আটকে পড়া যাত্রী জিয়ারুল ইসলাম ও ফারুক আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দাবি আদায়ের নামে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জরুরি প্রয়োজনে গন্তব্যে যেতে গিয়ে তারা চরম বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সৈয়দপুর শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির শরফুদ্দিন খান বলেন, ক্যাম্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তবে সেইসঙ্গে বিদ্যুৎ অপচয় রোধে ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সচেতন থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

ক্যাম্প উন্নয়ন কমিটির সভাপতি মাজিদ ইকবাল জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণেই মূলত এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা তাদের জানিয়েছেন। বিশেষ করে হিটারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

নেসকো পিএলসির সৈয়দপুর কার্যালয়ের প্রকৌশলী আলিমুল ইসলাম সেলিম জানান, ক্যাম্পে থাকা ২০০ কেভিএ ট্রান্সফরমারের সক্ষমতার তুলনায় বর্তমানে অনেক বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিটি ঘরে হিটার ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন যন্ত্রপাতির যথেচ্ছ ব্যবহারের কারণে অতিরিক্ত লোড তৈরি হচ্ছে, যা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল কারণ।

প্রকৌশলী আরও বলেন, ব্যবহারকারীরা যদি নির্ধারিত সীমার মধ্যে বিদ্যুৎ খরচ করেন, তবে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেকখানি কমে আসবে। বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে এমন আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

0%
0%
0%
0%