অর্থনৈতিক সততাই ছিল জিয়াউর রহমানের প্রধান বৈশিষ্ট্য: ফজলুর রহমান এমপি

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল বাংলাদেশের ইতিহাসের একজন অবিচ্ছেদ্য অংশই নন, বরং তিনি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সততার এক অনন্য প্রতীক। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্থানীয় অডিটোরিয়াম নেতা-কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফজলুর রহমান জিয়াউর রহমানের অর্থনৈতিক সততাকে তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ গুণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও জিয়াউর রহমান ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদকে জনগণের সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতেন। তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতার প্রশংসা করে এমপি বলেন, সংকটময় মুহূর্তে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও মানুষের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাসই ছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তবে সেই বিশ্বাসের কারণেই তিনি জীবন দিয়ে তার মূল্য পরিশোধ করেছেন, যা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে তাঁর শেষ মুহূর্তের অবস্থান থেকেই প্রমাণিত।
মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা স্মরণ করে ফজলুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের সেই টালমাটাল সময়ে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে তিনি জাতিকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিলেন। জীবন বাজি রেখে নেওয়া সেই সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁকে ইতিহাসে মহান করে রেখেছে। পাশাপাশি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদানকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, লোভ ও দুর্নীতির বর্তমান সময়ে জিয়াউর রহমানের মতো সৎ ও নির্লোভ নেতৃত্বের অভাব জাতি তীব্রভাবে অনুভব করছে। সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের কথাও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। তিনি বলেন, দুই দশকের দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও নির্যাতনের পরও বিএনপির কর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হননি, যার ফলে আজ তারা জনগণের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন। আলোচনা সভা শেষে দেশ ও জাতির শান্তি এবং জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।