ফ্যাক্ট চেক সোশ্যাল মিডিয়া

শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের বলে প্রচারিত ‘রামদা হাতে ছবি’টি পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর

প্রকাশঃ ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শেরপুরে নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের বলে প্রচারিত ‘রামদা হাতে ছবি’টি পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর
যাচাইকারী: সে অলওয়েজ ট্রুথ

কী দাবি করা হয়েছিল?

শেরপুরে ২৮ জানুয়ারির সংঘর্ষের সময় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম রামদা হাতে ছিলেন—এমন একটি ছবি অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে ‘এভাবেই সংখ্যালঘু সনাতনী দের নির্যাতন করছে উগ্রবাদী জঙ্গীরা ’

ফ্যাক্টচেক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ২৮ জানুয়ারি শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শেরপুর–৩ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে এক নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে সামনের সারিতে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এই সংঘর্ষে শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন। ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
সম্প্রতি অনলাইনে অস্ত্র (রামদা) হাতে এক ব্যক্তির একটি ছবি ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হয়, ছবিটি সংঘর্ষের দিন নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের তোলা। বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্টচেক করে তথ্য যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম।

অনুসন্ধানে যা জানা গেছে
রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি শেরপুরের সাম্প্রতিক সংঘর্ষের দিনের নয়। বরং ছবিটি অন্তত ২০২৪ সাল থেকেই অনলাইনে বিদ্যমান ছিল।
অনুসন্ধানে দেখা যায়,
‘ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, বাংলাদেশ (IH&CB)’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ‘Prothom Basanta – প্রথম বসন্ত’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ নভেম্বর একটি পোস্ট দেওয়া হয়। ওই পোস্টে মোট সাতটি ছবি সংযুক্ত ছিল এবং ক্যাপশনে ‘ইসলামে ডাকাতি ও লুটতরাজের কঠোর শাস্তি’ শিরোনামে কোরআন ও হাদিসের বিভিন্ন উদ্ধৃতি উল্লেখ করা হয়।

সেই পোস্টের প্রথম ছবিটির সঙ্গে বর্তমানে আলোচিত ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

এছাড়া,
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জনগণের আওয়ামীলীগ’ নামের আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকেও গত বছরের ডিসেম্বরে দেওয়া একটি পোস্টে একই ছবির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে, জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারির সংঘর্ষের ঘটনায় নিহত হন, যা ছবিটি অনলাইনে প্রচারিত হওয়ার সময়ের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সিদ্ধান্ত

"শেরপুরে ২৮ জানুয়ারির সংঘর্ষের সময় নিহত জামায়াত নেতা রেজাউল করিম রামদা হাতে ছিলেন—এমন একটি ছবি অনলাইনে ছড়ানো হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে ‘এভাবেই সংখ্যালঘু সনাতনী দের নির্যাতন করছে উগ্রবাদী জঙ্গীরা ’" - দাবীটি বিভ্রান্তিকর
০%
০%
০%
০%

সম্পর্কিত ফ্যাক্ট চেক

লিংক কপি হয়েছে!