ফ্যাক্টচেক
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর হামলার দাবিতে প্রচারিত একটি ভিডিওকে বিভ্রান্তিকর বলে চিহ্নিত করেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সত্য হলেও ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার এবং ঘটনাস্থল মিরপুর নয়। বরং এটি পিরোজপুরের নেছারাবাদে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য।রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানী দলের তথ্য অনুসারে, ভাইরাল ভিডিওটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ রাখার আন্দোলনের সাথে যুক্ত। এই আন্দোলনের কারণে বিদ্যালয়ে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, যা শিক্ষকদের সাথে বাগ্বিতণ্ডা ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) পিরোজপুর, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’-এর ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যুক্ত ছবিগুলোর সাথে প্রচারিত ভিডিওর সাদৃশ্য রয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিক্ষকদের আন্দোলনের ফলে অভিভাবকদের ক্ষোভ বেড়ে যায় এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। একইভাবে, ‘ঢাকা মেইল’-এর ৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, পিরোজপুরের নেছারাবাদে সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে দুই দফায় ধাক্কাধাক্কি হয়। এ ঘটনার পর শিক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা যায়।
আরও অনুসন্ধানে ‘কারাগার’ নামের একটি ফেসবুক পেজে একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি বরিশালের নেছারাবাদে শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে সংঘর্ষের দৃশ্য। উভয় ভিডিওর মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং ঘটনার ধরনের সাদৃশ্য বিশ্লেষণ করে এটি নিশ্চিত হয়েছে।
অন্যদিকে, মিরপুরের প্রকৃত ঘটনা নিয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম ‘বিজনেস স্টান্ড্যার্ড’-এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৯ ডিসেম্বর মিরপুরে হকার উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হামলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়িসহ সিটি করপোরেশনের যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এতে ডিএনসিসির ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। তবে এই প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিও বা ছবির সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওর কোনো মিল পাওয়া যায়নি।
রিউমর স্ক্যানার টিমের এই অনুসন্ধান থেকে স্পষ্ট যে, মিরপুরের ঘটনার সাথে যুক্ত করে ভিন্ন একটি ভিডিও প্রচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে এ ধরনের বিভ্রান্তি এড়ানো যায়