চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অভিনব কৌশলে তথ্য গোপন করে বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির চাঞ্চল্যকর ঘটনা উন্মোচিত হয়েছে। কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে এক সপ্তাহেরও কম সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এগারোটি বিলাসবহুল গাড়ি ও গাড়ির খণ্ডিত অংশ আটক করা হয়েছে। রেঞ্জ রোভার, লেক্সাস ও বিএমডব্লিউর মতো দামি ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো পুরোনো যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেশে আনা হয়েছিল। জব্দ করা এসব গাড়ির সম্ভাব্য বাজারমূল্য ত্রিশ কোটি টাকারও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পূর্ণাঙ্গ গাড়ি আমদানিতে উচ্চহারে শুল্ককর এবং পুরোনো গাড়ি আমদানির জটিলতা এড়াতেই একটি চক্র এই অভিনব জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। প্রতারক চক্রটি গাড়িগুলোকে কেটে টুকরো টুকরো করে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে বন্দর দিয়ে খালাস করে নিচ্ছে। পরে দেশের বিভিন্ন ওয়ার্কশপে নিয়ে এসব খণ্ডিত অংশ জোড়া লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাড়িতে রূপান্তর করা হয়। তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার সিসি ক্ষমতার এসব গাড়ির শুল্ক এড়াতে নামমাত্র মূল্যে আমদানি নথিপত্র তৈরি করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন জানিয়েছেন, খণ্ডিত অংশ হিসেবে আমদানি করে কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মাত্র কয়েক লাখ টাকা পরিশোধের অপচেষ্টা চলছে। জাপান থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল এবং মোংলা বন্দর দিয়ে আনা এমন বেশ কিছু চালানের সত্যতা মিলেছে। এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকা থেকেও বৈধ কাগজপত্রবিহীন বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান ও সিন্ডিকেটের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিক্যালস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল রিয়াজুর রহমান মনে করেন, গাড়ির উচ্চ শুল্ক হারের কারণে একটি সিন্ডিকেট এই অবৈধ সুযোগ নিচ্ছে। শুল্কের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনলে এবং বৈধ প্রক্রিয়া সহজ করলে এ ধরনের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে। সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবীর চৌধুরী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।