সিলেটে মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর অভিযানের নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সিলেট সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় সিলেটের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সভায় সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অপরাধ দমনে শুধু ব্যবস্থা নেওয়াই নয়, বরং আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মাদক নির্মূলে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকের ভয়াবহ ছোবলে সমাজে নানা অবক্ষয় ও অপরাধ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে। এছাড়া গণঅভ্যুত্থানের সময় খোয়া যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে বিশেষ তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি জানান, অবৈধ অস্ত্রের তথ্য প্রদানকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া বিতর্কিত লাইসেন্স যাচাই-বাছাই ও বাতিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জননিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘মব জাস্টিস’ বা গণপিটুনির মতো বিশৃঙ্খলা কঠোরভাবে দমনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক অবরোধ কিংবা সরকারি প্রতিষ্ঠান ঘেরাওয়ের পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবিনামা পেশের আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় তিনি স্পষ্ট করেন যে, যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ছাড় দেবে না।
সিলেটের খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনায় পরিবেশ ও জনস্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও নদীভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি বালু-পাথর উত্তোলনের কার্যক্রম মনিটরিং করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে একটি বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আদালতের চলমান মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।
বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সভায় মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান। তিনি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাভুক্ত শীর্ষ ৫০ মাদক ব্যবসায়ীর তালিকা করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর জোর দেন। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও যানবাহন সরবরাহের বিষয়টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মতবিনিময় সভায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক, সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সিলেটে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নে পুলিশের কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
