Advertisement

ব্রাজিল নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে লুলার সাথে ব্যবধান কমছে বলসোনারোর ব্যবধানে

ব্রাজিলের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারোর তুলনায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি কুয়েস্টের পরিচালিত এক জনমত জরিপের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, দুই প্রার্থীর মধ্যকার লড়াই ততই হাড্ডাহাড্ডি রূপ নিচ্ছে।

জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে লুলা দা সিলভা ৪৩ শতাংশ ভোট পেতে পারেন, যেখানে ফ্লাভিও বোলসোনারোর প্রাপ্তি ৪০ শতাংশ হতে পারে। যেহেতু জরিপের ত্রুটির মাত্রা ২ শতাংশ, সেহেতু এই ফলাফলকে কার্যত একটি পরিসংখ্যানগত সমতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। গত ৫ আগস্টের তুলনায় এই ব্যবধান কমেছে, কারণ সেই সময় লুলা ৫ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

নির্বাচনের প্রথম ধাপের পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩৮ শতাংশ ভোট নিয়ে লুলা কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তার পেছনে ৩১ শতাংশ ভোট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছেন ফ্লাভিও বোলসোনারো, যিনি মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী হিসেবে ডানপন্থী ভোটারদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে রেনান সান্তোস ও রোনালদো কাইয়াদো প্রত্যেকে ৪ শতাংশ এবং রোমিউ জেমা ২ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

ব্রাজিলের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রথম ধাপে অর্ধেকের বেশি বৈধ ভোট না পেলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে রান-অফ বা দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির শীর্ষ নির্বাচনী আদালত জাইর বোলসোনারোকে অযোগ্য ঘোষণা করায় তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ফ্লাভিও এখন ডানপন্থীদের প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন।

বিজ্ঞাপন

গত ১০ থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত মোট ২ হাজার ৪ জন ভোটারের ওপর গ্লোবো মিডিয়া গ্রুপের অর্থায়নে এই জরিপটি পরিচালনা করা হয়। সাও পাওলোতে আয়োজিত ওয়ার্কার্স পার্টির সম্মেলনে লুলা দা সিলভা তার পুনঃনির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন। প্রচারণায় তিনি ব্রাজিলের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে খনিজ সম্পদ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিদেশি নিয়ন্ত্রণ রোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

লুলা স্পষ্ট করেছেন যে, চীন, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ফ্রান্সের মতো পরাশক্তিগুলোকে ব্রাজিলের খনিজ সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তি নাক গলালে তা বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনের চূড়ান্ত পর্যায়ে লুলার কাঠামোগত সুবিধা থাকলেও বর্তমান প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%