লেবাননের সেনাবাহিনী নিয়ে বৈরুত ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিরোধ তীব্রতর

লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব ও চলমান সংঘাত নিরসনে বৈরুতের কূটনৈতিক তৎপরতাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছে হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটির শীর্ষ নেতা নাঈম কাসেম অভিযোগ করেছেন, লেবাননের সরকার এমন একটি অকার্যকর চুক্তির পেছনে ছুটছে যা দেশটির জাতীয় সেনাবাহিনীকে চরম অপমান ও ইসরায়েলি চাপের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। কাসেমের মতে, সমঝোতার নামে লেবাননের সামরিক বাহিনীকে রক্ষা করার পরিবর্তে সরকার তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে দিচ্ছে।
লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম গত শুক্রবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এবং লেবাননের জন্য নিয়োজিত মার্কিন সামরিক সমন্বয়কারী দলের প্রধান জেনারেল জোসেফ ক্লিয়ারফিল্ডের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সালাম ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম বন্ধ করা এবং লেবাননের ভূখণ্ড থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহারের একটি স্পষ্ট সময়রেখা নির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছেন। একই দিনে লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরিও মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল নিয়মিত লেবাননের গ্রামগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে, ফসলি জমি বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিচ্ছে এবং ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দিচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘস্থায়ী স্থিতিশীলতা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখায় তাদের সেনাদের ফিরিয়ে নেওয়া। অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এই আলোচনাগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করলেও পরবর্তী বৈঠকের কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি।
হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম বৈরুত প্রশাসনের কাছে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন যে, গত সাত দফা আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যের একটি নজিরও কি তারা দেখাতে পারবে? তিনি অভিযোগ করেন, লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত দেশটির সার্বভৌমত্বকে খর্ব করতে চাইছে। এছাড়া জাওতার আল-গারবিয়াহর মতো নির্ধারিত পাইলট জোনে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা ও বাড়িঘর ধ্বংসের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাহিনী সীমান্ত থেকে সরবে না। বর্তমানে লেবাননের ভূখণ্ডের ভেতরে বেশ কিছু শহর ও এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর দখলে রয়েছে।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ৪,৩৩৫ জন নিহত এবং ১২,২৭৭ জন আহত হয়েছেন। সংঘাতের ভয়াবহতায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দশ লাখেরও বেশি মানুষ। বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে বিশাল মতপার্থক্যের কারণে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, তবে আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
