অতিরিক্ত মুঠোফোন ব্যবহারের খেসারত অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দিলেন অভিনেত্রী শাকিলা

স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি যে আধুনিক জীবনের জন্য কতটা অভিশাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে, তার এক জলজ্যান্ত উদাহরণ হয়ে সামনে এলেন দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাকিলা। দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে মুঠোফোন ব্যবহারের খেসারত দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে শরনাপন্ন হতে হয়েছে অস্ত্রোপচারের। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা নিজেই এক ভ্লগের মাধ্যমে ভক্তদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
চেন্নাইয়ের মেডওয়ে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় শাকিলা জানান, দীর্ঘ সময় বিছানায় কাত হয়ে শুয়ে একটানা স্মার্টফোনে গেম খেলা ও রিলস দেখার নেশাই তাঁর ঘাড়ের এই দুরবস্থার মূল কারণ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই অবস্থানে থেকে গেম খেলার অভ্যাসের কারণে ঘাড়ের একটি অংশ থেকে তরল নির্গত হতে শুরু করে, যা অসহ্য যন্ত্রণার সৃষ্টি করে। শেষ পর্যন্ত সেই জটিলতা নিরসনে অস্ত্রোপচার করতে হয়, যেখানে টাইটানিয়ামের স্ক্রু পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে। এই পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় তিন লাখ রুপি।
অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়টুকু ছিল বেশ যন্ত্রণাদায়ক। শাকিলা জানান, সুস্থ হওয়ার পথে হাঁটার সময় তাঁকে অন্য মানুষের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে, এমনকি খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ কাজটুকু করতেও বেগ পেতে হয়েছে। চিকিৎসকের কড়া নির্দেশ মেনে দীর্ঘদিন তাঁকে ঘাড়ের সাপোর্ট বা কলার পরে কাটাতে হয়েছে।
নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে प्रशंसकों উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, স্মার্টফোন অপরিহার্য, কিন্তু এর অপব্যবহার থেকে বিরত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে অভিভাবক ও শিশুদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গেম খেলে কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভিডিও দেখে মূল্যবান সময় ও স্বাস্থ্য নষ্ট করা একদমই অনুচিত। রসিকতার ছলে হলেও শাকিলার এই পরামর্শ বেশ গম্ভীর—অপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল আসক্তি এড়িয়ে না চললে হয়তো তাঁকে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় ও যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হয়েছে, অন্যদেরও সেই একই নিয়তির শিকার হতে হবে।
নব্বইয়ের দশকে বিনোদন জগতে পদার্পণ করা শাকিলা মালয়ালম সিনেমার এক সময়কার গ্ল্যামারাস মুখ ছিলেন। ১৯৯৫ সালে ‘প্লে গার্লস’ সিনেমার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ২০০০ সালের ‘কিন্নারা থুম্বিকাল’ দিয়ে তিনি আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা পান। পরবর্তীতে মূলধারার সিনেমায় ফিরে এসে মোহনলাল, বিজয় ও মহেশ বাবুর মতো সুপারস্টারদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাঁর সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। শরীরের এই কঠিন লড়াইয়ের মাধ্যমে শাকিলা যেন আজ নতুন করে বিনোদনপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিলেন, জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সুস্থভাবে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা।
