অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাঘের গর্জন হাসান মাহমুদের তোপে কোণঠাসা স্বাগতিকরা

লক্ষ্মীপুরের কৃতি সন্তান হাসান মাহমুদ মাঠের বাইরের স্বভাব আর মাঠের পারফরম্যান্সের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। বিনয়ী এই পেসার উইকেটের উদযাপনেও সংকোচ বোধ করেন, যেন প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে ছোট করা না হয়। তবে মাঠের ক্রিকেটে তিনি বরাবরই ক্ষুরধার। মারারা ওভালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের প্রথম দিনে সেই হাসানই যেন হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের আক্রমণের বড় অস্ত্র। অস্ট্রেলীয় কিংবদন্তি মিচেল স্টার্কের প্রতি মাঠের ভেতর সম্মান প্রদর্শনের সেই স্নিগ্ধ মুহূর্ত ছাপিয়ে দিনশেষে তিনি নিজের বোলিং জাদুতে কোণঠাসা করে ফেলেন অজিদের।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামা বাংলাদেশ কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তেই আসেনি, বরং নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়ে স্বাগতিকদের মাঠের লড়াইয়ে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর মূল লক্ষ্য ছিল অজিদের শ্রদ্ধা অর্জন করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন দীর্ঘ বিরতি আর না পড়ে। বৃহস্পতিবার সেই মিশনে টাইগাররা দারুণভাবে সফল। প্যাট কামিন্সদের কন্ডিশনে তাদেরই যেন ক্রিকেটের পাঠ দিলেন শান্তর শিষ্যরা।
বল হাতে হাসান মাহমুদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ছিল দিনের বড় প্রাপ্তি। তার নিখুঁত লেন্থ এবং পিচ থেকে বাড়তি স্কিড অজি ব্যাটারদের বাধ্য করেছে ভুল করতে। জেক ওয়েদারল্ডকে ফিরিয়ে শুরুটা করেছিলেন তিনি, এরপর ট্রাভিস হেডকে সাজঘরে পাঠিয়ে ভাঙেন রক্ষণ। দিনশেষে স্টিভ স্মিথকে শিকার করে হাসান পূর্ণ করেন নিজের ৫ উইকেট। তাকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। তাসকিন দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন, আর এবাদত ছিলেন পুরোটা সময় এক প্রান্ত আগলে রাখা হুমকির নাম। অস্ট্রেলিয়া তাদের প্রথম ইনিংসে গুটিয়ে যায় মাত্র ১৯৮ রানে।
বোলারদের এমন দাপুটে প্রদর্শনীকে পূর্ণতা দেয় ব্যাটারদের ধৈর্যশীল ব্যাটিং। তানজিদ হাসান ও অভিজ্ঞ মমিনুল হকের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ কেবল টিকে থাকেনি, বরং অজি পেস আক্রমণকেও করেছে নখদন্তহীন। বিশেষ করে ন্যাথান লায়নকে সামলে রান তোলার ক্ষেত্রে ব্যাটাররা দেখিয়েছেন অসাধারণ শৃঙ্খলা। বল ও ব্যাটে অস্ট্রেলিয়ার চিরচেনা কৌশলেই তাদের ঘায়েল করে বাংলাদেশ বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা কেবল লড়াই করতে আসেনি, বরং মাঠের কর্তৃত্ব বুঝে নিতেই নামছে। প্রথম দিনের এই পারফরম্যান্স বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের জন্য এক নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল।
