অভাবকে জয় করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেল সীতাকুণ্ডের মেধাবী পারজানা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার এক প্রান্তিক কৃষক পরিবারের অভাবের কষাঘাতকে জয় করে অদম্য মেধায় এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে পারজানা আক্তার। অভাবের কারণে নামিদামি কোচিং কিংবা গৃহশিক্ষকের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও, কঠোর অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে সে এই সাফল্য ছিনিয়ে এনেছে। সীতাকুণ্ড বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর চোখে এখন আগামী দিনে এমবিবিএস ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, যার মাধ্যমে সে সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চায়।
পারজানার জীবন সংগ্রামের গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। বাবা নুরুল ইসলামের সীমিত আয়ে ছয়জনের সংসার চালানোই যেখানে কঠিন ছিল, সেখানে মেয়ের পড়াশোনার বাড়তি খরচ জোগানো ছিল পরিবারের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ। এর ওপর নবম শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগ বেছে নেওয়ায় পড়াশোনার চাপ আরও বেড়ে যায়। তবে পরিবারের এই টানাপোড়েনের মাঝেও হাল ছাড়েনি পারজানা। একটি গণমাধ্যমে স্বল্প বেতনে চাকরি করা বড় ভাইয়ের উৎসাহ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্বিক সহযোগিতায় সে এগিয়ে গেছে আপন গতিতে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম রাব্বানি জানান, পারজানা অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। শৃঙ্খলা ও পড়াশোনার প্রতি তার একাগ্রতা তাকে সহপাঠীদের কাছে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিদারুল আলমও পারজানার এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে কঠোর পরিশ্রম করলে যে অভাবকে তুচ্ছ করে শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, পারজানা আজ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
ফলাফল প্রকাশের দিনে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ার পর আনন্দের অশ্রুতে ভেসেছে পারজানা ও তার পরিবার। বাবা নুরুল ইসলাম ও মা খতিজা বেগমের কাছে মেয়ের এই অর্জন দীর্ঘদিনের দারিদ্র্য ও সংগ্রামের এক সার্থক প্রতিদান। এখন তাদের একটাই প্রত্যাশা, পারজানার স্বপ্ন যেন পূরণ হয় এবং সে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে। সীতাকুণ্ডের এই মেধাবী কন্যার সাফল্যে গর্বিত পুরো এলাকাবাসী।
