AdvertisementAdvertisement

হরমুজ প্রণালী নিয়ে পাল্টাপাল্টি ক্ষতিপূরণের দাবি ট্রাম্প ও তেহরানের

ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার শর্ত হিসেবে যুদ্ধক্ষতির দাবি তোলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে গত ৫০ বছরের ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তার প্রশাসন ইরানের কর্মকাণ্ডে গত পাঁচ দশকে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষে অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করবে। ইরানের আরোপিত শর্তের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি ক্ষতিপূরণের কথা বলে, তবে আমরাও তাদের কর্মকাণ্ডে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থের দাবি জানাব।

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বজুড়ে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ হতো, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর তা স্থবির হয়ে পড়েছে। তেহরানের ভাষ্যমতে, ওয়াশিংটন যুদ্ধক্ষতি পরিশোধে সম্মত না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথটি বন্ধই থাকবে। জুন মাসে স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তির শর্তানুসারেই ইরান এই দাবি জানিয়ে আসছিল, তবে প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে সেই চুক্তি এখন ঝুলে আছে। ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকলেও ট্রাম্পের নতুন এই দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

ট্রাম্পের দাবি, গত ৫০ বছরে এই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর মৃত্যু এবং ইরানের অভ্যন্তরে বেসামরিক বিক্ষোভকারীদের হত্যার জন্য তেহরানকে দায় নিতে হবে। ট্রাম্প দাবি করেন, গত চার মাসে ইরানে ৫২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যদিও ইরান সরকারের তথ্য অনুযায়ী গত জানুয়ারিতে দেশটিতে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ৩ হাজার ১১৭ জন প্রাণ হারিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ (এইচআরএএনএ) ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে ৬ হাজার ৫০০ বিক্ষোভকারীসহ প্রায় ৭ হাজার মানুষ নিহতের কথা জানিয়েছিল। এছাড়া ২০০০ সালে ইয়েমেনে ‘ইউএসএস কোল’ নৌযানে হামলায় ১৭ নাবিক নিহতের দায়ও ট্রাম্প তেহরানের ওপর চাপিয়েছেন।

আল-জাজিরা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে নিছক বাগাড়ম্বর হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। ওবামা প্রশাসনের সাবেক বিশেষ সহকারী চার্লস কুপচান মনে করেন, দুই পক্ষই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী, কারণ তেলের রপ্তানি বন্ধ থাকলে ইরানের অর্থনীতি টিকে থাকা অসম্ভব এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পেন্টাগনের মজুত অস্ত্র কমতে থাকা নিয়েও মার্কিন প্রশাসনের ওপর বাড়তি চাপ রয়েছে।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই দাবি করেছেন, ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা গঠনমূলকভাবে এগিয়ে চলছে এবং নতুন নৌপথের ম্যাপ চূড়ান্ত হয়েছে। তবে তিনি ওয়াশিংটনের চলমান অবরোধকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, মার্কিন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডই’ প্রণালীটিকে অনিরাপদ করে তুলেছে। অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জুলাই মাসে অবরোধ পুনরায় চালুর পর থেকে তারা ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ঘুরিয়ে দিয়েছে এবং অন্তত দুটি জাহাজকে অকার্যকর করে দিয়েছে। জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্যমতে, গত সপ্তাহান্তে প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%