AdvertisementAdvertisement

ইরানের নিরাপত্তা পরিষদে বড় রদবদল: নতুন প্রধান হলেন মহসিন রেজায়ি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। দেশটির শীর্ষ নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণী সংস্থা ‘সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল’ বা এসএনএসসি-এর নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজায়িকে। মূলত চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশের নিরাপত্তা ও কৌশলগত কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ সমরনায়কদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন করা হচ্ছে।

রবিবার এই নিয়োগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। একাত্তর বছর বয়সী মোহসেন রেজায়ি আশির দশকে ইরাক-ইরান যুদ্ধের সময় টানা ষোলো বছর আইআরজিসির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার এই নিয়োগ প্রমাণ করে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বরং অভ্যন্তরীণ সংহতি বৃদ্ধি এবং সামরিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শীর্ষ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণ আরও সংহত করাই এর মূল লক্ষ্য।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এর পাশাপাশি সোমবার আরও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক পদে নতুন নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যৌথ যুদ্ধ কমান্ডের প্রধান আলি আবদোল্লাহি। এছাড়া আইআরজিসি নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আলি ওজমায়ে। বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে মেজর জেনারেল পদমর্যাদায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ ভাহিদিকে আইআরজিসির নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ ঘোষণা করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে নিহত মোহাম্মদ পাকপুরের স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়া মোহাম্মদ বাঘের জোলঘদরকে সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রেজায়ির নিয়োগের মাধ্যমে ইরান তার সামরিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক নীতিগুলোকে সমন্বিত করার বৃহত্তর কৌশলগত পুনর্গঠন শুরু করেছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নুরনিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বিচ্ছিন্ন ব্যবস্থাপনা দূর করাই নতুন এই নেতৃত্বের প্রধান কাজ।

Advertisement
বিজ্ঞাপন

এদিকে রেজায়ির এই নিয়োগে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক পুলিশের ইন্টারপোল রেড নোটিশভুক্ত এক ব্যক্তিকে উচ্চপদ দিয়ে ইরান মূলত সন্ত্রাসবাদকে মদদ দিচ্ছে। বিশেষ করে ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে ইহুদি কেন্দ্রে বোমা হামলার ঘটনার সঙ্গে রেজায়ির নাম জড়িত থাকার বিষয়টি তারা পুনরায় সামনে এনেছে।

তবে তেহরানের কট্টরপন্থীদের মধ্যে এই নিয়োগ ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে রেজায়ির মতো একজন আপসহীন সমরনায়কের উপস্থিতি বিদ্যমান সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান শুরুতে এই রদবদলের বিষয়ে কিছুটা অনীহা প্রকাশ করেছিলেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

0%
0%
0%
0%